পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার টলিউডের অন্দরেও উঠতে শুরু করেছে পরিবর্তনের দাবি। শিল্পীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তথাকথিত ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ করার দাবিতে মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেন বিজেপি বিধায়ক Rudranil Ghosh। উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক, পরিচালক, টেকনিশিয়ানদের পাশাপাশি অভিনেতা Parambrata Chattopadhyay।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরমব্রত জানান, দীর্ঘ ২৫ বছরের বন্ধুত্বের সম্পর্কের টানেই তিনি রুদ্রনীলের ডাকে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বহু বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন এবং অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা শিল্প ও কাজের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, অতীতে যেমন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ একসঙ্গে কাজ করতেন, ভবিষ্যতেও সেই পরিবেশ ফিরে আসা দরকার।
পরমব্রত স্পষ্টভাবে জানান, একজন শিল্পীর রাজনৈতিক মত থাকতেই পারে, কিন্তু কাজের জায়গায় সেই পরিচয় যেন কখনও বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। তাঁর কথায়, কেউ “জয় বাংলা”, কেউ “জয় শ্রীরাম”, কেউ “বন্দেমাতরম” বা “লাল সেলাম” বলতেই পারেন, কিন্তু সিনেমার কাজে তার প্রভাব পড়া উচিত নয়।
অভিনেতা আরও দাবি করেন, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রির একাংশকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ফেডারেশন এবং টেকনিশিয়ানদের মধ্যে আলোচনা করানোর জন্য বারবার আবেদন জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর তাঁকে অলিখিতভাবে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন পরমব্রত।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন অভিনেতা জানান, সেই কঠিন সময়ে সদ্যোজাত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাঁকে আপস করতে হয়েছিল। দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, ভবিষ্যতে যাতে কোনও শিল্পীকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সেই আবেদনই জানিয়েছেন অভিনেতা।